Breaking News

ধনা,ঢ্য পরিবারের নারীদের কাছেও ছেলে সরবরাহ করতেন মৌ-পিয়াসা

রাজধানীর বারিধারা থেকে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে মডেল মরিয়ম আক্তার মৌকে (মৌ আক্তার) আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হতিয়ে নিতো। দুজনকে গ্রেফতারের পর একের পর এক বিষ্ফোরক তথ্য বেড়িয়ে আসছে। ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম মৌ দু’জনই কথিত মডেল।

নামের সামনে মডেল শব্দটি যুক্ত থাকলেও মডেলিং জগতে তাদের তৎপরতা তেমন একটা নেই। চেহারার লাবণ্য আর শারীরিক সৌন্দর্যকে পুঁজি করে তারা হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। ঢাকার বিত্তশালীদের কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন। বাসায় পারিবারিক পার্টির কথা বলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ডেকে নিতেন। সুযোগ বুঝেই রূপের আড়ালের আসল মানুষটাকে চেনাতেন। বাসায় আমন্ত্রিত অতিথিকে ফাঁদে ফেলে বস্ত্রহীন ছবি-ভিডিও তুলে রাখতেন। তারপর সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে করতেন ব্ল্যাকমেইলিং। আদায় করতেন লাখ লাখ টাকা। কাঙ্ক্ষিত টাকা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চলে এই পন্থা। এভাবে পিয়াসা ও মৌ দীর্ঘদিন ধরে তাদের রংমহলে ডেকে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ব্ল্যাকমেইলিং করে আসছিলেন। হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

অবশেষে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ কথিত এই দুই মডেলকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিয়াসা ও মৌ দু’জনই গ্ল্যামার্স গার্ল। কিছুদিন মিডিয়া অঙ্গনে থাকার জন্য মোটামুটি পরিচিতি ছিল তাদের। এছাড়া তারা দু’জনের গ্ল্যামার্স থাকার কারণে অনেকেই তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইতেন। তারাও কাউকে নক করলে যে কেউ তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেত। এর বাইরে তারা কিছু লোককে টার্গেট করে কাজ করতেন। চক্রের পুরুষ সদস্যরা কিছু লোককে টার্গেট করে তাদের ফেসবুক আইডি, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন।

পরে এসব আইডিতে বন্ধু হবার প্রস্তাব পাঠাতেন। অনেক সময় মোবাইল নম্বরে রং নম্বর বলে ফোন দিয়ে পরিচয়ের সূত্রপাত করতেন। কারো সঙ্গে পরিচিত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সখ্য গড়ে তুলতেন। তারপর পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের বাসায় পার্টিতে আমন্ত্রণ জানাতেন। পরিকল্পিত সেই পার্টিতে নাচ-গানের ব্যবস্থা থাকতো। অতিথিকে মদ খাইয়ে মাতাল করা হতো। অনেক সময় নেশাদ্রব্যের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয়া হতো। তারপর অচেতন অতিথির সঙ্গে পিয়াসা-মৌ অন্তরঙ্গভাবে দাঁড়িয়ে শুয়ে ছবি ভিডিও করাতেন। আবার অনেক সময় তাদের হেফাজতে থাকা অন্যান্য নারীদের দিয়ে একই কাজ করাতেন।

অভিযানের সময় পিয়াসা ও মৌ-এর মোবাইল থেকে অন্তরঙ্গ অনেক ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। সাইবার সূত্র আরও জানিয়েছেন, পিয়াসা ও মৌ শুধু প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাসায় ডেকে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করতেন না। তারা দু’জন পুরুষের কাছে টাকার বিনিময়ে নারী ও বিভিন্ন ধনাঢ্য ঘরের নারীদের কাছে পুরুষ সরবরাহ করতেন। এই কাজ করে তারা লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। সরবরাহ করার জন্য তাদের কাছে অনেক নারী পুরুষ ছিল।

Check Also

জামাইকে হাতুড়িপেটা করে পুলিশে দিলেন শ্বশুর

নববধূর সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আপ্যায়নের বদলে শিকার হয়েছেন হাতুড়িপেটার। শুধু তাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *