Breaking News

বিয়েবাড়ি হলো মৃ,ত্যু,পুরী, প্যা,ন্ডেলের নিচে হাজারো মানুষের আহাজারি

নতুন বউকে ঘরে তুলতে স্বজনদের নিয়ে নৌকায় যাচ্ছিলেন বর মিজানুর রহমান। কিন্তু মুহূর্তেই পুরো দৃশ্যপট পাল্টে গেল। বিয়েবাড়ির সব আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে বিষাদে। বরযাত্রীর নৌকায় বজ্রপাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনসহ ১৬ জন। আনন্দের বিয়েবাড়িতে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি। মিজানুর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নামোসূর্য নারায়ণপুর গ্রামে। বুধবার পার্শ্ববর্তী পাঁকা ইউনিয়নের নতুন বউকে বাড়িতে আনার দিন ঠিক ছিল তার। বরকে নিয়ে এদিন বেলা ১১টার দিকে কনের বাড়িতে রওনা দেন আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা।

নৌকায় নারায়ণপুর ইউনিয়নের আলীমনগর ঘাট থেকে পাঁকা ইউনিয়নের তেলেখালী দক্ষিণ পাঁকা গ্রামের ঘাটে পৌঁছানোর পর দুপুর ১২টার দিকে বজ্রপাত হয়। এতে মুহূর্তেই প্রাণ হারান ১৬ জন। পাঁকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন মাস্টার জানান, সদর উপজেলার নারায়ণপুর থেকে বউভাতের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন বউভাতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এছাড়া একজন দক্ষিণ পাকা গ্রামের নৌকার মাঝি। নৌকায় মোট যাত্রী ছিলেন ৫৫ জন। নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোমিন শরীফ বলেন, মিজানুর রহমানের বউ তুলে নেয়ার দিন ছিল বুধবার।

আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা বেলা ১১টার দিকে পদ্মা নদীতে নৌকায় রওনা হন কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে। নৌকাটি পাঁকা ইউনিয়নের তেলেখালী ঘাটে পৌঁছালে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে বর মিজানুর রহমান বেঁচে ফিরলেও তার বাবা পাথু মারা গেছেন। আত্মীয়-স্বজনরাও অনেকে মারা গেছেন। তিনি আরো বলেন, গ্রামজুড়ে এখন কান্নার রোল পড়েছে। হাজারো মানুষ এসে জড়ো হয়েছেন। যারা শুনছেন তারাই ছুটে আসছেন। আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মৃতদের নাম ঠিকানা জোগাড় করছি। তবে মানুষের এত চাপ যে এ মুহূর্তে মৃতদের নাম ঠিকানা একত্রিত করারও সম্ভব হচ্ছে না। পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীন জানান, দক্ষিণপাঁকা তেররশি গ্রামে বিয়ের আয়োজন ছিল। বরের বাড়ি নারায়ণপুর ইউনিয়নে আর কনের বাড়ি আমার ইউনিয়নে।

বরযাত্রী নিয়ে লোকজন দক্ষিণ পাঁকা খেয়াঘাটে পৌঁছানো মাত্রই বৃষ্টি শুরু হয়। তখন তারা ঘাটের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় বজ্রপাত আঘাত হানে ওই ঘরের ওপর। ঘটনাস্থলেই ১৬ জন মারা যান। মৃতরা হলেন- জমিলা বেগম, তবজুল, সাদল, রফিকুল, লেচন, সজীব, টকি বেগম, আলম, পাজু, সহবুল, বেলি বেগম, বাবুল, মৌসুমী, টিপু সুলতান, বাবু ও আশিকুল ইসলাম। তারা সবাই নারায়ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। রফিকুল পাঁকা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মাঝি ছিলেন। শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন জানান, বিয়ে আগেই হয়েছিল। আজ নতুন বউকে আনতে যাচ্ছিলেন তারা। নৌকাটি ঘাটে এসে পৌঁছার পর বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। ১৬ জন মারা গেছেন।

Check Also

জামাইকে হাতুড়িপেটা করে পুলিশে দিলেন শ্বশুর

নববধূর সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আপ্যায়নের বদলে শিকার হয়েছেন হাতুড়িপেটার। শুধু তাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *