Breaking News

১৫ টন বালু সরানোর পরও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ শিশুর

পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে পুকুর ভরাটের সময় আসাদুল্লাহ নামে ছয় বছরের একটি শিশু বালুর নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কা করা হয়। সোমবার রাত পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ১৫ টন বালু সরিয়ে নেয়ার পরও নিখোঁজ হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। তবে পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজ শিশুটি বালুর নিচে চাপা পড়েনি।

এর আগে সোমবার সকালের দিকে উপজেলার নতুন পেঁচাকোলা গ্রামে শিশুর নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে। সে উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের মো. আযম আলীর ছেলে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী পেঁচাকোলা গ্রামের একটি পুকুর ভরাটের জন্য বেশ কয়েক দিন ধরে বালু ফেলার কাজ চলছিল। পুকুরটি নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের অন্তত ১৫ জনের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।

পুকুর ভরাটের জন্য যমুনা নদী থেকে এক্সকাভেটরের (খননযন্ত্র) মাধ্যমে বাল্কহেডে বালু তুলে তীরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেই বাল্কহেড থেকে পাইপের মাধ্যমে পানিসহ বালু পুকুরে ফেলা হচ্ছিল। পাইপের মাধ্যমে যে স্থানে বালু ফেলা হচ্ছিল, সেই স্থানটি বালু মেশানো পানিতে ভরে থাকলেও সেটি বেশ গভীর এবং সেখানে যে কারও ডুবে যাওয়ার কথা।

এলাকাবাসী ও নিখোঁজ শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে শিশুপুত্র আসাদুল্লাহকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করছিল। একপর্যায়ে আসাদুল্লাহর খেলার সঙ্গী ও প্রতিবেশী সোহাগ নামে আরেকটি শিশু জানায়, সকাল ৯টার দিকে আসাদুল্লাহ ও সে ওই স্থানে বসে পাইপের মাধ্যমে বালু ও পানি পড়া দেখছিল। পরে সোহাগ বাড়ি চলে গেলেও আসাদুল্লাহ ঘটনাস্থলেই বসে থাকে।

এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে অনেকেই ধারণা করছেন, শিশুটি দুর্ঘটনাবশত পানি মেশানো বালুর মধ্যে পড়ে ডুবে গিয়ে থাকতে পারে। সূত্র আরো জানায়, স্বজনেরা বালু পড়ার ওই স্থানে শিশুটিকে খোঁজাখুজি করতে থাকেন। তারা ব্যর্থ হওয়ার পর বেড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পুলিশকে খবর দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘণ্টা দুয়েক ধরে ১৫ টন বালু সরিয়েও শিশুটির খোঁজ পাননি। সোমবার রাত পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শিশুটিকে খোঁজা হয়। এরপর উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, যমুনা নদী থেকে বালু তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এর আগে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে বালু তোলা প্রায় বন্ধ ছিল। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারি কমে যাওয়ার সুযোগে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বেড়া মডেল থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, গতকাল দুপুর থেকেই শিশুটিকে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।

উদ্ধারকাজে যত রকম কৌশল প্রয়োগ করা দরকার থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তা আমরা করছি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ছেলেটি এখানে নেই। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় নৌকায় মাইক নিয়ে নদীতে ছেলেটিকে খোঁজা হচ্ছে। বেড়ার ইউএনও সবুর আলী বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করা হয়। অনেক সময় প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে তারা বালু তোলে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

Check Also

আবু ত্ব-হা আদনানের পক্ষে হাইকোর্টে লড়বেন ব্যারিস্টার সুমন

আলোচিত ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মাদ আদনানসহ তার সফরসঙ্গীদের খুঁজে বের করতে আইনি সহায়তা দেওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *