ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যায় স্বামীর ফাঁসি

ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে গৃহবধূ তাহমিনা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় তার স্বামী ওবায়দুল হক টুটুলকে (৩২) ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। এ সময় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফেনী জজ কোর্টের পিপি হাফেজ আহম্মদ বলেন, সব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে খুনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

রায়ের বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, অল্প সময়ে মামলাটির বিচার কাজ শেষ হয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। আমরা সুবিচার পেয়েছি। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, আমরা সুবিচার পাইনি। সুবিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আমরা আপিল করবো। হত্যাকাণ্ডের শিকার তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন বলেন, ন্যায় বিচার পেয়েছি, সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

এর আগে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামী ওবায়দুল হক টুটুল (৩২) ৯৯৯-এ নিজেই ফোন করে ঘটনা জানান এবং পুলিশি সহায়তা চান। তারপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। টুটুল ভূঁইয়া নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এমন নৃশংস খু’নের অবতারণা করেন ওই যুবক। ওবায়দুল হক টুটুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তাদের ঘরে দেড় বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। সে একই এলাকার গোলাম মাওলা ভুঞার ছেলে।

হত্যার আগে ফেসবুক লাইভে টুটুল ভুঁইয়া বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আজকে আমার কারণে আমার পরিবার ধ্বংস। যার কারণে ধ্বংস আজকে তারে আমি এ মুহূর্তে ধ্বংস করে দিলাম। আমি চেষ্টা করছি, অনেক চেষ্টা করছি, পারি নাই। আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই আমাকে মাফ করে দেবেন। আমার এতিম মেয়েটার খেয়াল রাখবেন। আমার ভাইবোনগুলোর খেয়াল রাখিয়েন। আমার পরিবার ভাইবোনগুলার কোনো দোষ নাই। কেউ এটাতে সম্পৃক্ত না।

আমি আমার আজকের এ ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী।’ পুলিশ ও নিহতের বোন রেহানা আক্তার জানান, ৫ বছর আগে কুমিল্লা জেলার গুনবতী এলাকার আকদিয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে ওবায়দুল হক টুটুলের প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে আর্থিক অস্বচ্ছলতা নিয়ে তাদের পরিবারের মাঝে প্রায় সময় ঝগড়া হয়ে আসছিল। এরইমধ্যে স্বামী টুটুল মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকাও নেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানায়।

এক পর্যায় দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী টুটুল তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি দা দিয়ে কুপিয়ে হ’ত্যা করে। পরে হত্যাকারী টুটুল নিজেই পুলিশকে ৯৯৯ মুঠোফোনে খবর দিলে পুলিশ ফেনী মডেল থানাকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ফেসবুকে প্রচার চালানো মোবাইল জব্দ করে। ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবু বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তেরর জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফেসবুক লাইভে হত্যার পর টুটুল নিজেই ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে হত্যার কথা জানায়। পরে আমরা তাকে ধরতে গিয়ে দুই পাশের দরজা আটকানো পাই। পরে ওই নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার ও নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। এসময় মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে।’

Check Also

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সস্পর্ক, অতঃপর

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। তদুপরি মেয়ে পক্ষের লোকজন ১লা ডিসেম্বর গত ২৪/১১/২১ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *