ছাত্রীকে প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা অপুকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুন) নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত নেতা সাতগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াদ্দা এলাকার মো. শহিদের ছেলে। সে ওই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিল।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১০ মে সকাল ১০টায় নবম শ্রেণি পড়ূয়া এক ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারে তুলে নেয় অপু।

পরে বেলা ১১টায় বাড়ির কাছে বালুর মাঠে নির্জন স্থানে নিয়ে গাড়িতে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না বলার শর্তে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। এতে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখে।কিন্তু কালক্ষেপণ করলে ভুক্তভোগী পরিবারকে জানায়। পরে বিয়ের জন্য অপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মানা করে দেয়। এতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বুধবার সকালে মামলাটি করেন। মামলা হওয়ার পরে অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃআমি কুড়িগ্রামের সন্তান। এখানে জন্মই যেন আমার আজন্ম পাপ। এ কথা কারও অজানা নয় যে, প্রতিবছর একাধিকবার বন্যায় আক্রান্ত কুড়িগ্রাম জেলা। এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সঙ্গেই যেন বেঁচে থাকে। একবার মাথা তুলে দাঁড়ায়, আবার কোমর ভেঙে যায়। অসহায় এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। যতটুকু সহায়তা পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।একটা বিষয় ভাবতেই অবাক লাগে, একই সময়ে কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা হলো। আমরা জানতে পারছি, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি সরকারের সর্বোচ্চ মনোযোগ পেল, সরকারপ্রধান হেলিকপ্টারে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনও করলেন। সেটিই অবশ্যই হওয়ার কথা, যেহেতু সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মাত্রা ছিল অনেক বেশি।

কিন্তু তাই বলে কুড়িগ্রামের প্রতি এত অবহেলা কেন? এখানকার মানুষ কি মানুষ নয়, দেশের নাগরিক নয়, তারা কি ট্যাক্স দেয় না? এসব প্রশ্নের উত্তর আমি পাই না। প্রতিবছর এখানকার মানুষ বন্যায় ভাসে আর ডোবে। তাদের দেখতে সরকারপ্রধানের কি একবারও ইচ্ছা হয় না? মনের বেদনা থেকে এসব কথা বেরিয়ে এল।প্রতিবছর দারিদ্র্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কি আমাদের জন্য আশীর্বাদ, নাকি বিধির লিখন? এখানে বন্যা হওয়া কি স্রষ্টার লেখা অবিনশ্বর বাণী, যেটা ভাঙানো যাবে না? সরকারের কাছে এ উত্তর জানতে ইচ্ছা করে। বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে এ জেলার জন্য? দারিদ্র্য বিমোচনে নেই বিশেষ বাজেট, নেই কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ। আমরা গরিব, তাই বলে কি সবকিছু থেকে বঞ্চিত?

আমি সিলেটের বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ দেওয়াকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কুড়িগ্রামের বন্যাকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হবে না, এটাই আমি জানাতে চাইছি। মাথায় তেল নেই বলে কি সামান্য তেল পাওয়ার অধিকার আমাদের নেই, না এখানে জন্মটাই আমাদের পাপ। যুগের পর যুগ আমাদের এমনই থাকবে, আমাদের কথা বলার মতো কোনো লোক নেই। এখানকার মানুষ সহজ-সরল, এটাই কি একপ্রকার পুঁজি! আমাদের দারিদ্র্যের জন্য কি কখনো ভেবেছেন? প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙন, ক্ষুধার কাতরে আর্তনাদ, গৃহহীন হওয়া, অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, শিশুশ্রম, বন্যার কবলে স্বজন হারিয়ে দিশেহারা হওয়া, এগুলো কি দারিদ্র্যের কারণ নয়?দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন আমাদের জেলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। কুড়িগ্রামের মানুষ কর্মসংস্থান চায়, তারা অনুদান চায় না। দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী—সবার কাছে আবেদন, আমাদের এই জেলা নিয়ে একটু ভাবুন। এ জেলার জন্য বিশেষ বাজেট দিন, বাজেটের সুষ্ঠু তদন্ত করুন, নদীতে বাঁধ দিন, নদী খনন করুন, দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন।

Check Also

ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে চাকরি হারালেন শিক্ষক

দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া শিক্ষক আল শাহারিয়ার রোকনকে (৩৫) বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার …